উন্মেষ
নূর-উন-নাহার আনছারী


এই তো সেদিন

এক তৃষ্ণালু সকালে

শ্রাবণের চঞ্চলা

মেঘবালিকা আমায়

কথা দিয়েছিলো,

আমার চারপাশের

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠকে

স্নান করাতে

বারি ঝরাবে

এক নদী

বৃষ্টি উপহার দিয়ে ।


তারপর !

সূর্য থাবা মেরে মেঘের পালক

উপড়ে নিয়েছিলো।

বুঝলাম,

মেঘ কথা রাখতে পারবে না।


অথচ মেঘমালা জানলোই না

দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে

ভুমিষ্ট হওয়ার

অপেক্ষায় আছে

হাজারও খাদ্যশস্য।

অপরিপক্ক শস্যকণাগুলি

চিৎকার করছে

আর অভিশাপ দিচ্ছে

হে মানবজাতি,

তোমাদের !


দেখো,

কিভাবে ডুকরে কাঁদে

আর ফরিয়াদ

করে,

নর্দমা কিংবা ময়লার স্তুপে

পরে থাকা নাভীপদ্ম !


তোমাদেরই

লালসা আর পাপের সাক্ষী হয়ে।


শস্যদানাদের তোমরাই

বৃষ্টির জল থেকে বঞ্চিত করেছো ।

তোমরা খুনি ।

অবশ্য খুন করা তোমাদের অভ্যেসে

দাঁড়িয়ে গেছে সেই বহুদিন আগে থেকে।

বলতে পারো,

নতুন কোন নবরূপে

আইয়্যামে জাহেলিয়া যুগের

প্রত্যাবর্তন ঘটাচ্ছো ।

এত নাটক আমি বুঝি না।

বুঝতে জানিনা।

আমার বৃষ্টি চাই,

জলবায়ুকে নিত্যদিন শাসন করে চলেছো ।

আর কতো !

এবার শ্রান্ত হও, 

হে উগ্রতা !


বর্ষার বৃষ্টি দাও।

আঁচলখানি পেতেছি

শুধুই একটু বর্ষন ঝড়াও।

ক্ষরার চর পোয়াতি,

প্রসব বেদনায়

জঠরে ফাঁটল ধরেছে

হাওড়, বাওড়, খাল, ঝিল

বাঁচাও !

শিশুদের প্রানে প্রান ফিরে দাও।


মেঘমালা

আমাদের মানব জাতির 

বড্ড ঘাট হয়ে গেছে

তুমি ফিরে চাও,

একটু শ্রাবণীধারায়

আমাদের পাপমুক্তির

শেষ সুযোগটুকু দাও।